স্বাস্থ্য

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে বাড়ছে ৫০০ শয্যা, উদ্বোধন কাল

আপডেট: আগ ১৪, ২০২৬ : ০৪:২০ এএম ১২
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে বাড়ছে ৫০০ শয্যা, উদ্বোধন কাল

দেশে স্নায়ুরোগের চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়ছে। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে (নিনস) যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা। হাসপাতালের নতুন ভবনটি আগামীকাল শনিবার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টায় ভবনটির উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভবনের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। অধিকাংশ চিকিৎসা সরঞ্জামও স্থাপন করা হয়েছে। নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১ হাজারে। এতে এটি দেশের সবচেয়ে বড় বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠবে।

১৫ তলা ভবনে নানা আধুনিক সুবিধা

সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ভবনটি ১৫ তলা। এর নিচের তিনটি তলা বেজমেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সেখানে পার্কিং ও সার্ভিস সেকশন রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় রাখা হয়েছে ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক ইউনিট।

নতুন ভবনে রয়েছে ৪০ শয্যার আইসিইউ, ২০ শয্যার এইচডিইউ, ১১২টি কেবিন ও ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড। এ ছাড়া রয়েছে ৬২টি ভেন্টিলেটর, একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরআই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ভবনের তিনটি বেজমেন্টসহ পুরো ভবনটি কেন্দ্রীয় শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। সরকারি কোনো চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের ব্যবস্থা এই প্রথম বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

১০০ শয্যার ট্রমা ইউনিট

সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় মাথা ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের জন্য নতুন ভবনে ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের সুবিধা থাকবে।

ট্রমা ইউনিটে চারটি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মডুলার অপারেশন থিয়েটার। জার্মান প্রযুক্তির এসব অপারেশন থিয়েটারে নিয়ন্ত্রিত ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া রোগীদের এক তলা থেকে অন্য তলায় সহজে স্থানান্তরের জন্য এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত চলন্ত সিঁড়ি (স্কেলেটর) রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের সুবিধাও প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে।

নতুন ভবনে রয়েছে অত্যাধুনিক অটোক্লেভ মেশিন, চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সলিড ওয়েস্ট ডিসপোজাল সিস্টেম এবং পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট।

শয্যার অভাবে রোগী ফেরাতে হয়

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বাসসকে বলেন, নতুন ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যা যুক্ত হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে অনেক রোগীকে চিকিৎসা না দিয়েই ফেরত দিতে হয়। কারণ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি করে না।

অধ্যাপক নুরুজ্জামান খান বলেন, নতুন ভবন চালু হলে আরও অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শয্যার সংকট অনেকটাই কমবে এবং রোগী ফেরত দেওয়ার ঘটনা কমে আসবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

স্ট্রোকের রোগী বেশি

হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে দুর্ঘটনায় মাথা ও মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া রোগী।

এ ছাড়া পারকিনসন, ডিমেনশিয়া, গিলিয়ান-বারে সিনড্রোম (জিবিএস), মৃগী ও হাইড্রোসেফালাসসহ বিভিন্ন স্নায়ুরোগে আক্রান্ত রোগীরা এখানে চিকিৎসা নেন। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী রোগীর জন্যই সেবা রয়েছে।

২০০৬ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে নিউরোরোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন ভবনটির উদ্বোধন করবেন। বিষয়টিকে হাসপাতালের জন্য গর্বের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!