স্বাস্থ্য

অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

আপডেট: আগ ১৮, ২০২৬ : ০৪:৫৪ এএম ১৩
অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গত পাঁচ মাসে অভিযান চালিয়ে সারা দেশে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৯ মার্চ থেকে অবৈধ ও মানহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত এসব অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। আরও ২০০টি ক্লিনিককে সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদেরও নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬ হাজার ক্লিনিক তাদের লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও ২ থেকে ৩ হাজার প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কেন অভিযান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, চিকিৎসাসেবার মান বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও নিম্নমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিযানের আওতায় আনা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ছিল সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, রংপুরে ১১১, খুলনায় ১৫৬, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে ৮টি অবৈধ প্রতিষ্ঠান ছিল।

রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজধানীতে প্রায় ২৫টি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুতর অনিয়ম পাওয়া যায়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ছয়টি ক্লিনিক, শরীয়তপুরে দুটি ক্লিনিক, নরসিংদীতে দুটি, পাবনায় দুটি ক্লিনিক, মানিকগঞ্জে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে একটি এবং রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংকও বন্ধ করা হয়েছে।

‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করবে না।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত করা হয়েছে। অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতালের অনিয়ম দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদপত্র যাচাই করা হচ্ছে। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে জরিমানা, সিলগালা কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!