অর্থনীতি

ব্যাংক খাতে সংস্কার ও সুশাসনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

আপডেট: জুন ০৯, ২০২৬ : ০৪:৪৬ এএম
ব্যাংক খাতে সংস্কার ও সুশাসনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক: গভর্নর

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে গভর্নর এসব কথা বলেন। সভায় তিনি বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ কমানো, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদায়-অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনায় ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ প্রণয়নের কাজ চলছে।

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে গভর্নর বলেন, ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, কয়েকটি বড় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায়ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসারে বাংলাদেশ ব্যাংক সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান গভর্নর। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তার আরও বাড়বে। পাশাপাশি ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে।

সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ ব্যাংক খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!