অর্থনীতি

বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ’ অনলাইন সেবা চালুর উদ্যোগ

আপডেট: জুন ২২, ২০২৬ : ০৪:৪২ এএম
বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘ওয়ান-স্টপ’ অনলাইন সেবা চালুর উদ্যোগ

দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও সহজ ও কার্যকর করতে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সরলীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক ‘ওয়ান-স্টপ উইন্ডো’ সেবা চালুর কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে অনুমোদন নিতে হয়—এ ধরনের জটিলতা কমাতেই অনলাইনভিত্তিক সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাবে।

তবে শিল্পকারখানা বা অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন প্রক্রিয়া সব সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয় না বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, নিরাপত্তা, অগ্নিনিরাপত্তা, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হয়।

বিনিয়োগ কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্য প্রভিশনাল বা অস্থায়ী লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনুমোদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা কমিয়ে আনার জন্য একটি রূপরেখা ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতের চাহিদা ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় লাইসেন্সিং ব্যবস্থার উন্নয়নেও কাজ চলছে।

কারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিদর্শন কার্যক্রম সমন্বয় করবে। এতে একবারেই প্রয়োজনীয় পরিদর্শন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং বিনিয়োগকারীদের বারবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হবে না।

বৈঠকে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থার দিকে এগোতে চায় বাংলাদেশ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় পুরোপুরি বৈদ্যুতিক যানবাহনের পরিবর্তে প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

জেবিসিসিআই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্প স্থাপন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী ও বাণিজ্য অংশীদার উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও স্বচ্ছ, সহজ ও কার্যকর ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকে জেবিসিসিআই নেতারা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।


আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!