বড় আকারের সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্পে দেশীয় ব্যবস্থাপনা পরামর্শকদের (ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট) বেশি সম্পৃক্ত করলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করে ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস বাংলাদেশ (আইএমসিবি)।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির নেতারা বলেন, দেশের অনেক সনদপ্রাপ্ত পরামর্শক ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। তাই সরকারি প্রকল্পগুলোতে অন্তত ৬০ শতাংশ স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা উচিত।
অনুষ্ঠানে আইএমসিবির সভাপতি নদিম এ চৌধুরী, চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন এবং অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুর রব বক্তব্য দেন। আসন্ন বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের নেতারা বলেন, সমমানের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি পরামর্শকদের তুলনায় দেশীয় পরামর্শকরা অনেক কম পারিশ্রমিক পান। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ বৈষম্যের কারণে একদিকে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় দক্ষ মানবসম্পদ যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তাঁদের মতে, বিদেশি পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সুযোগ বাড়ানো গেলে ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশের পেশাগত সক্ষমতাও আরও শক্তিশালী হবে।
আইএমসিবির নেতারা জানান, দেশীয় ও বিদেশি পরামর্শকদের মধ্যে বিদ্যমান পারিশ্রমিক বৈষম্য দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নীতিগত পরিবর্তনের জন্য তারা উদ্যোগ নেবেন। একই সঙ্গে দেশীয় পরামর্শকদের অগ্রাধিকার ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার দাবিও জানান তাঁরা।
সভায় আইএমসিবির সভাপতি নদিম এ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৭ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে পেশাটির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে এটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ইনস্টিটিউটসের (আইসিএমসিআই) স্থায়ী সদস্য।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশে ‘সার্টিফায়েড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট (সিএমসি)’ পদবি প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে, যা পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের স্বীকৃতি বহন করে।
আইএমসিবির চেয়ারম্যান এম জাকির হোসেন বলেন, দেশের পরামর্শক খাত ক্রমেই প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফলে প্রকৃত দক্ষ ও সনদপ্রাপ্ত পরামর্শকদের চিহ্নিত করা অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে খাতটির সুশৃঙ্খল বিকাশ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি জানান, পেশাগত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখতে সংগঠনের উপবিধি ও আচরণবিধি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং (পিজিডিএমসি) এবং সিএমসি সনদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হবে। পাশাপাশি জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও নিয়ন্ত্রক খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশীয় পরামর্শক সেবার সক্ষমতা বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!