বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৬৬০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
‘পরিবর্তনশীল জ্বালানি প্রেক্ষাপটে পোশাক খাতে কার্বনমুক্তকরণের অগ্রযাত্রা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এ কথা বলা হয়। আজ বুধবার এইচএসবিসি বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাস এবং অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট (এআইআই) যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।
এইচএসবিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আলোচনায় সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড, তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কার্বন কমানোর লক্ষ্য
আলোচনায় মূল বক্তব্য দেন এআইআইয়ের ক্রিস্টিনা এলিন্ডার লিল্হাস। আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ ৫০ শতাংশ কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রায় ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসির গ্লোবাল হেড অব ক্লিন পাওয়ার সিস্টেমস র্যান্ডলফ ব্রেজার এবং এইচএসবিসির এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাসটেইনেবিলিটি ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধান জাস্টিন উ।
‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় বাজার ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা যখন কম কার্বন নিঃসরণের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উৎপাদন সক্ষমতার সঙ্গে পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়ার সমন্বয় করে টেকসই সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে শীর্ষস্থান অর্জনের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করতে জ্বালানি রূপান্তরের বাণিজ্যিকায়ন এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, সহায়ক নীতি, উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইং প্রধান এ কে এম সোহেল, সুইডিশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ওলে লুনদিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারওয়ার হোসেইন, বিজিএমইএর সহসভাপতি বিদ্যা খান, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের কিম হেলস্ট্রম এবং এটিটিআইয়ের অলিভিয়া উইন্ডহাম স্টুয়ার্টসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!