মুখের ঘা বা ক্যানকার সোর হলো মুখের ভেতরে গাল, ঠোঁট বা জিহ্বায় হওয়া ছোট ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষত। এটি একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস এর প্রধান কারণ বা তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত থাকে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন ও পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট খাবার মুখের ঘা সৃষ্টি করতে পারে বা বিদ্যমান ঘা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণাতেও বিষয়টি উঠে এসেছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ফল ও পানি গ্রহণের অভ্যাস মুখের ঘা পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ মুখের ভেতরের টিস্যু সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার মুখের ঘা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
ঝাল খাবার:
অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাদার খাবার মুখের নরম টিস্যুতে জ্বালা সৃষ্টি করে, যা নতুন ঘা তৈরি করতে পারে বা আগের ঘা আরও বেদনাদায়ক করে তোলে।
অম্লীয় খাবার ও পানীয়:
লেবু, কমলা, টমেটো ও ভিনেগারের মতো অম্লীয় খাবার মুখের ঘায়ে জ্বালা বাড়ায় এবং নিরাময়ের প্রক্রিয়া ধীর করতে পারে।
লবণাক্ত ও প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস:
চিপস, চানাচুরসহ লবণাক্ত খাবার মুখের ভেতরের আবরণে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
মচমচে ও শক্ত খাবার:
টোস্ট, ক্র্যাকার, বাদামের মতো খাবার মুখের ভেতরে ক্ষুদ্র আঘাত সৃষ্টি করতে পারে, যা ঘা হওয়ার কারণ হতে পারে।
অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে এমন খাবার:
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে চকলেট, কফি, স্ট্রবেরি বা বাদামের মতো খাবার মুখের ঘা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, মুখের ঘার সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা বাড়ানো এবং কোন খাবারে সমস্যা বাড়ছে তা চিহ্নিত করা জরুরি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!