বিএনপি ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি জনগণ যে আস্থা রেখেছে, তার যথাযথ প্রতিদান দিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। ভালো কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে।
আজ বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলা পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধনের পর কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছে। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে হলে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকতে হবে এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের শাসনব্যবস্থা প্রমাণ করেছে যে বলপ্রয়োগ করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। জনগণের সমর্থন ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের পতন সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দলটি একটি সহনশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে জনগণ ভোটের মাধ্যমে সেসব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস হলেও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রুহিয়া ও ভুল্লীকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলার মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পরিত্যক্ত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জেলার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!