জাতীয়

১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৪:৪৩ এএম
১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে: তথ্যমন্ত্রী

প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-ইন্ডাস্ট্রি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ, অভ্যন্তরীণ ঋণ ও খেলাপি ঋণের চাপ থাকা সত্ত্বেও সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রান্তিক কৃষকদের স্বার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

তিনি বলেন, দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এবং কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা জাতীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ধীরে ধীরে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয় প্রয়োজন। কাঁচা কৃষিপণ্যকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত শিল্পপণ্যে রূপান্তর করা গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সাংবাদিকদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব। এসব প্রতিবেদন নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি জানান, কৃষি অর্থনীতি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প নিয়ে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো সংকলন করে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রসঙ্গ টেনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়েই ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সাংবাদিকদের উৎসাহিত করে না, দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এ ছাড়া প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গবেষক ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্প খাতের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনের জন্য প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন—এই তিন বিভাগে সাতজন সাংবাদিককে সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।

প্রিন্ট বিভাগে পুরস্কার পান দ্য ডেইলি স্টারের সুকান্ত হালদার, দ্য ডেইলি সানের রফিকুল ইসলাম এবং এম মুনির হোসেন। টেলিভিশন বিভাগে পুরস্কার পান চ্যানেল ২৪-এর দেলাওয়ার হোসেন দোলন ও একাত্তর টিভির রাকিব হোসেন। অনলাইন বিভাগে পুরস্কার পান জাগো নিউজ ২৪-এর নাজমুল হোসেন এবং একুশে পত্রিকা ডটকমের শরিফুল রুকন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন সদস্যের জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!