জাতীয়

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৪:৪৯ এএম
শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান

দেশে শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি সমন্বিত শিশু নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, শিশু নির্যাতন শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়; এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও রাষ্ট্রের সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টার–এ অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান শিশু নির্যাতন মোকাবিলা: প্রতিবন্ধকতা, দায়িত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য শিশু নির্যাতনের কারণগুলো চিহ্নিত করে বিদ্যমান আইন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি মূল্যায়ন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনলাইন ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

বর্তমান সময়ে শিশুদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক নির্যাতনের ঝুঁকিও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার এবং প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের অধিকার সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে নির্যাতনের ঘটনা কমানো কঠিন হবে।

নির্যাতিতদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা

ডেপুটি স্পিকার বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি, চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ

আলোচনা সভায় বহুল আলোচিত রামিসা হত্যা মামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, মামলাটির দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলেন, ‘কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাসী হতে হবে।’

গোলটেবিল বৈঠকে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, গবেষক ও নারী-শিশু অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বক্তারা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণ এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!