জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হলেও এ খাতে বরাদ্দের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টার–এ ‘বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংলাপের আয়োজন করে সিপিআরডি, এইচইকেএস এবং সুশীলন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য খাতের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এইচএনএপি) অনুযায়ী জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। তবে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের বিপরীতে বাজেট বরাদ্দের হার ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত এক গবেষণায় দেখা যায়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সম্পর্কিত বরাদ্দ ২০২১–২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের অংশও প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
সংলাপে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস–এর গভর্ন্যান্স, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবিষয়ক সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শিরিন সুলতানা লিরা। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক তথ্যকে কার্যকর নীতি ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেট বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে অধিক অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদি বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের জন্য শক্তিশালী জলবায়ু-যুক্তি উপস্থাপন অপরিহার্য। তিনি জানান, বৈশ্বিক অভিযোজন অর্থায়ন এক বছরে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার কমেছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জলবায়ু বাজেট ট্যাগিং ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং খাতভিত্তিক সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে আসে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তের ঘাটতি শক্তিশালী অর্থায়ন প্রস্তাব তৈরি এবং তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনো উন্নয়ন পরিকল্পনার মূলধারায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে বিভিন্ন উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়ন কমে যাওয়ার বাস্তবতায় বিদ্যমান সম্পদ ও অর্থায়নের সুযোগগুলো সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বক্তারা স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!