জাতীয়

মাঠ-পার্ক পুনরুদ্ধার ও মাদকমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেট: জুন ০৯, ২০২৬ : ০৪:৫১ এএম
মাঠ-পার্ক পুনরুদ্ধার ও মাদকমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

দেশের খেলার মাঠ ও পার্ক পুনরুদ্ধার, আধুনিকায়ন এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনির উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আলোচনায় নিলুফার চৌধুরী মনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের খেলার মাঠ ও পার্ক একসময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেক মাঠ ও পার্ক মাদকসেবী, বখাটে, অবৈধ দখলদার ও হকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। কোথাও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড, কোথাও কাঁচাবাজার কিংবা স্থাপনা নির্মাণের কারণে মাঠগুলোর স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ডে মোট ২৩৫টি খেলার মাঠ থাকলেও এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য কার্যকরভাবে উন্মুক্ত রয়েছে মাত্র ৪২টি। এছাড়া রাজধানীতে গত কয়েক বছরে ১২৬টি মাঠ হারিয়ে যাওয়ার তথ্যও উল্লেখ করেন তিনি।

জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের উত্থাপিত অধিকাংশ তথ্য বাস্তবসম্মত। তিনি জানান, বিগত সময়ে বিভিন্ন কারণে দেশের অনেক মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান দখল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব স্থান পুনরুদ্ধার করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৫৬টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছে। গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্ককে হকার ও অপরাধমুক্ত করে আধুনিক পার্কে রূপান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মতিঝিল পার্ক, নবাবগঞ্জ পার্ক, রসুলবাগ মাঠ, খিলগাঁও-বাসাবো মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠ, হাজারীবাগ পার্ক ও আমলীগোলা খেলার মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ৩৮টি পার্ক ও মাঠ আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও খুলনা সিটি করপোরেশনেও মাঠ ও পার্ক উন্নয়ন এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে আন্তঃস্কুল ফুটবল ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। এতে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সম্পূরক প্রশ্নে মাঠ ও পার্কে মাদকসেবীদের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলে মন্ত্রী বলেন, মাদক একটি বড় সামাজিক ব্যাধি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যুবসমাজ, সামাজিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করে মাদকের বিরুদ্ধে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মাঠ ও পার্কগুলোকে দখলমুক্ত, নিরাপদ এবং শিশু-কিশোরবান্ধব পরিবেশে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!