প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অ্যাক্রেডিটেশন শুধু একটি সনদ বা স্বীকৃতি নয়; এটি দেশের শিল্পখাতকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে আজ সোমবার তিনি এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উদ্ভাবন, আস্থা এবং টেকসই উন্নয়ন: অ্যাক্রেডিটেশনের শক্তি’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অ্যাক্রেডিটেশন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য ও সেবার গুণগত মান যাচাই করা হয়। এর ফলে দেশীয় পণ্য ও সেবার প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা বৃদ্ধি পায়।
তারেক রহমান বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) দেশের পণ্য ও সেবাকে বিশ্ববাজারে আরও গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৬৮টি সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দিয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে পাঁচটি ক্ষেত্রভিত্তিক স্কিমের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে উদ্ভাবন, আস্থা ও টেকসই উন্নয়ন একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এ তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস উদ্যাপনের উদ্যোগ সময়োপযোগী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ভোক্তারা শুধু পণ্যের গুণগত মান নয়, উৎপাদন প্রক্রিয়ার নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং নির্ভরযোগ্যতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন ফোরাম (আইএএফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (আইএলএসি) প্রতিবছর ৯ জুন বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবস পালন করে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ দিবস উদ্যাপন দেশের মান অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি দিবসটির সার্বিক সাফল্যও কামনা করেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!