জাতীয়

বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: শামা ওবায়েদ

আপডেট: জুন ০৯, ২০২৬ : ০৫:১২ এএম
বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: শামা ওবায়েদ

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকারী বাংলাদেশি সদস্যদের প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবতার দূত হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা বিশ্বজুড়ে অনন্য মর্যাদা অর্জন করেছেন।

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব)।

শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের সম্মান রক্ষা এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা, মানবিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে তারা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবস্থানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

তিনি বলেন, সংঘাত নিরসনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নেও বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহযোগিতা, সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও অংশীদারত্বের নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হলো মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, ন্যায়বিচার ও মানবিক সংহতি। বাংলাদেশ সেই দর্শন থেকেই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সক্রিয়ভাবে অবদান রেখে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টির বেশি মিশনে দুই লাখ ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

ড. তৌহিদুল হক বলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া এবং বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান।

ডিজাব সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকে ঘিরে নানা ধরনের ধারণা থাকলেও এর প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত শান্তিরক্ষীদের ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব, পেশাদারিত্ব এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে তাঁদের অবদানের ভিত্তিতে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!