জাতীয়

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার

আপডেট: জুন ১৪, ২০২৬ : ০৫:০৬ এএম
প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধাপাচারের প্রবণতাকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ড. মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে দেশের উন্নয়নে আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। তাঁদের বিনিয়োগ, জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগ থেকেই বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ভিশনের কথা বলে আসছেন। সরকার একটি স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ধীরে ধীরে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে আসবে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের পথচলা শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। আর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

সরকার কেবল অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রচলিত ধারা থেকে সরে এসে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শ্রমবাজারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ধরন ও অংশগ্রহণকারীদের বৈচিত্র্য বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ বা ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান ড. মাহদী আমিন। তাঁর ভাষ্য, এ কার্ড চালু হলে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের তথ্য সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আরও সহজে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে আবেদনকারীদের আর্থিক তথ্য ও শিক্ষাগত সনদ কিউআর কোডভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

তরুণদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে সরকার নতুন একটি ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বলেও জানান তিনি। এর আওতায় বিদেশে ভাষাশিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে যেতে আগ্রহীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবেন।

ড. মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোন ধরনের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা রয়েছে, তা নিরূপণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি কর্মীদের অর্জিত সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!