দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার জাতীয় সংসদে বিধি ৩০০-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ও ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি দেশটিতে আটক রয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইউএইর প্রচলিত আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করেছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। ওই নোটিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি ঢাকা ইতিমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করছে।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হবে।
এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!