জাতীয়

বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী নেপালের স্পিকার

আপডেট: জুন ১৮, ২০২৬ : ০৫:০৭ এএম
বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী নেপালের স্পিকার

নেপালের সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যাল বাংলাদেশের সঙ্গে সংসদীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে দুই দেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার কাঠমান্ডুতে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্পিকার এ আগ্রহের কথা জানান। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে দোল প্রসাদ আর্যাল বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাঁর দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সুসংহত করতে নেপালের সংসদ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রশংসা করে নেপালের স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার উৎস হতে পারে।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে খেলাধুলা, পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে আর্যাল বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় এর প্রভাব মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন তিনি।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের স্পিকারকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রার্থী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে নেপালের সমর্থনের জন্য দেশটিকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ ও জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার আরও অনেক সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ও বঙ্গোপসাগরীয় বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক)-এর মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের গুরুত্বও উল্লেখ করেন তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!