জাতীয়

গাজীপুরের কাঁঠালের প্রচারে উদ্যোগের আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর

আপডেট: জুন ২০, ২০২৬ : ০৫:৫৯ এএম
গাজীপুরের কাঁঠালের প্রচারে উদ্যোগের আশ্বাস তথ্যমন্ত্রীর

গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী কাঁঠালসহ দেশীয় ফলের প্রচার-প্রসার এবং বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে দেশব্যাপী প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শুক্রবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের ‘ফল মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন। জেলা সদর উপজেলা চত্বরে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। মেলায় দেশীয় বিভিন্ন জাতের ৩৪ ধরনের ফল প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের একটি কাঁঠাল ছিল দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ। ভিডিও কনফারেন্সে সেই কাঁঠাল মন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করা হলে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, গাজীপুরের কাঁঠাল ও কাঁঠালজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ খাতের বাজার প্রায় ৫০০ কোটি টাকার হলেও সুষ্ঠু প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের মাধ্যমে তা ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব। এ সময় তিনি কাঁঠালের ব্যাপক প্রচার-প্রসারে সরকারি উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।

জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী এই ফলকে দেশব্যাপী পরিচিত করতে প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানো হবে। একই সঙ্গে কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ফল মেলার মূল উদ্দেশ্য মানুষকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি দেশীয় ফলের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি দেশীয় ফল, ফুল ও গাছপালার সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গাজীপুরে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন কাঁঠাল।

গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মইন খান এলিস, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক এবং অতিরিক্ত উপপরিচালক আবদুল মতিন বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, ভাওয়াল অঞ্চলের উঁচু লাল মাটি, অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণেই গাজীপুরের কাঁঠাল আকারে বড় এবং স্বাদে অনন্য।

এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পরিবেশ উন্নয়ন ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৬০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের ফলদ গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি এবং ভার্মি কম্পোস্ট বিতরণ করা হয়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!