পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
তিনি বলেছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বুধবার রাতে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি–সংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
মীর হেলাল বলেন, কোনো এলাকায় গোলাগুলি হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ, বিজিবি বা সেনাবাহিনী পাঠিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ ও উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা কমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘কোনো স্থায়ী পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।’ সরকার আইনি, সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ই-লার্নিং ও মানসম্মত শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, শিক্ষায় সমতা নিশ্চিত করা গেলে পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যকার বৈষম্য কমবে।
পাহাড়ি এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মীর হেলাল বলেন, স্বাবলম্বী ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ পাওয়া মানুষ সাধারণত সন্ত্রাসী বা বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে জড়াতে চায় না।
গণতন্ত্র ও সুশাসনের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড পরিহার করে পার্বত্য অঞ্চলকে মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফি। এ সময় রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক পিএসসি, জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপু, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব পিপিএম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনসহ জেলা বিএনপি ও সুশীল সমাজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!