জাতীয়

পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ পার্বত্যমন্ত্রীর

আপডেট: অক্টো ১৬, ২০২৬ : ০৫:০১ এএম ৩ ০
পাহাড়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ পার্বত্যমন্ত্রীর

পাহাড়ি অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেছেন, শুধু আগাম সতর্কবার্তা তৈরি করলেই হবে না, তা দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সময়মতো ও সহজ ভাষায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সুরক্ষা’ প্রকল্পের জাতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইকোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পাহাড়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও বনায়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সাচিং প্রু বলেন, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং প্রকৃতির সহনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রকৃতির ক্ষতি না করে বিশেষ পদ্ধতিতে বনায়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে সেবামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনে গুরুত্ব

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের অন্যতম মৌলিক সমস্যা সুপেয় পানি ও টেকসই স্যানিটেশন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের সুবিধা পৌঁছে দিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তরুণদের খেলাধুলায় ফেরানোর আহ্বান

কিশোর ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধের ওপরও গুরুত্ব দেন সাচিং প্রু। তিনি বলেন, স্মার্টফোন ও অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি কমিয়ে তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় নতুন খেলার মাঠ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে এ বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (সচিব) রেজওয়ানুর রহমান, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্তা।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!