শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনে আদালতের সংখ্যা বাড়ানো, বিচারকের শূন্যপদ পূরণ, ই-কোর্ট ব্যবস্থা চালু এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। শ্রম আদালতে তীব্র মামলাজট বিচারব্যবস্থা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধানে উল্লেখিত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ জট নিরসন এখন সময়ের দাবি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহায়তায় আয়োজিত শ্রম আদালতের মামলাজট নিরসনবিষয়ক অংশীজন পরামর্শ সভায় ভিডিওকলের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামলাজট কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ই-কোর্ট ব্যবস্থা চালু করতে হবে। একই সঙ্গে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
সভায় উঠে আসা সুপারিশ বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
মামলা দীর্ঘায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমসচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিয়োগকর্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ শিল্পসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কার্যকর শ্রম বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, মামলা দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিকেরা তাঁদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। অন্যদিকে, নিয়োগকর্তারাও দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। তাই মামলাজট কমানো শুধু প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নয়, বরং শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত।
সভায় শ্রম আদালতের মামলাজটের প্রধান কারণ হিসেবে বিচারকের সংকট, প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতা, ত্রিপক্ষীয় বেঞ্চে প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার দুর্বল প্রয়োগ চিহ্নিত করা হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ প্রণয়ন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। একই সঙ্গে শ্রম বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের সভাপতিত্বে সভায় গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আরশাদুল আলম।
এ ছাড়া শ্রম আদালতের বিচারক, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!