প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আহরণ বাড়াতে দেশের ২৫টি সরকারি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব জলমহাল ইজারা দেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদানসংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
সভায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। উন্মুক্ত ও অনলাইনভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি জলমহালের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অন্যায় তদবির গ্রহণ না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে জলমহাল ইজারার সুপারিশ করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন তিনি।
যেসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা
সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০ একরের বেশি আয়তনের সরকারি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় মৌলভীবাজারের ১১টি, রংপুরের একটি, সিলেটের ১৯টি এবং কুষ্টিয়ার তিনটিসহ চার জেলার মোট ৩৪টি জলমহাল ইজারার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এ ছাড়া বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিল চুড়ইল জলমহাল, মৎস্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন নিমগাছি প্রকল্পের ৭৭৯টি পুকুরের ইজারার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হবিগঞ্জের বিল সুতী নদী (বদ্ধ) জলমহাল নিয়ে আলোচনা হয়।
উপস্থাপিত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে ২৫টি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সায়রাত অনুবিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামসহ কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া মৌলভীবাজার, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকেরা ভার্চ্যুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!