জাতীয়

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে শক্তিশালী জাতিসংঘের আহ্বান শামা ওবায়েদের

আপডেট: অক্টো ২৫, ২০২৬ : ০৫:০৯ এএম ৩ ০
শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে শক্তিশালী জাতিসংঘের আহ্বান শামা ওবায়েদের

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে কার্যকর জাতিসংঘ ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাতিসংঘ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান। জোনটা ইন্টারন্যাশনালের ডিস্ট্রিক্ট ২৫ এবং বাংলাদেশের জোনটা ক্লাবগুলো এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে কার্যকর জাতিসংঘ ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংহতি অপরিহার্য।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘের এই তিনটি মূল স্তম্ভ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে দেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথাও স্মরণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, সংলাপ, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে চলমান অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার পূর্বানুমানযোগ্যতা, সাশ্রয়ী অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন।

নারীর ক্ষমতায়ন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারীদের অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, ডিজিটাল হয়রানি এবং নারীর সমান সুযোগ লাভের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্প্রতি চালু হওয়া ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এর মতো উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের আদি নিবাসে দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের আরও জোরালো সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা। এ ছাড়া কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্য, জোনটা ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশের জোনটা ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!