জাতীয়

ইইউতে আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ

আপডেট: অক্টো ২৫, ২০২৬ : ০৫:১৪ এএম ২ ০
ইইউতে আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি বেড়েছে ১২.৭১ শতাংশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। এ মাসে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডেনিম রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩৪ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ইউরো, যা গত বছরের আগস্টে ছিল ১১৮ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ইউরো।

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক আমদানি প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি ছিল। এ মাসে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩০ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ইউরো।

ইইউর মোট ডেনিম আমদানিতে বাংলাদেশের অংশও বেড়েছে। গত বছরের আগস্টে এ বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা ছিল ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ, যা চলতি বছরের আগস্টে বেড়ে ৩১ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

তবে মাসভিত্তিক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও বছরের প্রথম আট মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি কমেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ইইউতে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৮৬৯ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯২৩ দশমিক ১১ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ আট মাসে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো।

একই সময়ে বিশ্ববাজার থেকে ইইউর ডেনিম আমদানি কমেছে ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ইউরোতে। ফলে আট মাসের হিসাবে ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ হয়েছে।

শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

রপ্তানি কমলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৩৪৪ মিলিয়ন ইউরো বেশি।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে পাকিস্তানের ডেনিম রপ্তানি ১৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ বেড়ে ৮৭ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। তবে জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে দেশটির রপ্তানি ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কমে ৫২৫ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। এ সময়ে ইইউর বাজারে পাকিস্তানের হিস্যা ছিল ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

তৃতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী তুরস্কের রপ্তানি কমেছে আরও বেশি। আগস্টে দেশটির ডেনিম রপ্তানি ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ কমে ৫৮ দশমিক ৮৪ মিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে রপ্তানি কমেছে ২১ দশমিক ০৮ শতাংশ। এ সময়ে তুরস্কের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৪৩৮ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ইইউর মোট আমদানির ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অন্য সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যেও রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে তিউনিসিয়ার ডেনিম রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ২১৯ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ইউরো, কম্বোডিয়ার রপ্তানি ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৪৪ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ইউরো এবং মরক্কোর রপ্তানি ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমে ৬৩ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে।

মিশর ও চীনের রপ্তানি বেড়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে ব্যতিক্রমী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে মিশর। আগস্টে দেশটির রপ্তানি ৫৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এ সময়ে মিশরের রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৮ দশমিক ১৪ মিলিয়ন ইউরো, যা ইইউর মোট আমদানির ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

চীনের ডেনিম রপ্তানিও বেড়েছে। প্রথম আট মাসে দেশটির রপ্তানি ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে। এতে ইইউর বাজারে চীনের অংশ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তুলনামূলকভাবে ছোট সরবরাহকারী হলেও ভিয়েতনাম ও ভারতও প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ভিয়েতনামের ডেনিম রপ্তানি ৪৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ, যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ইউরো।

সামগ্রিকভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক, তিউনিসিয়া, কম্বোডিয়া ও মরক্কোর তুলনায় বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি কমার হার কম ছিল।

শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থায় এগিয়ে বাংলাদেশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ডেনিম রপ্তানির প্রবণতা সম্পর্কে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাসসকে বলেন, পোশাক আমদানিতে সামগ্রিকভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলেও সুপ্রতিষ্ঠিত সরবরাহব্যবস্থা, দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ডেনিম উৎপাদনে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে। এর ফলে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী সরবরাহব্যবস্থা রয়েছে, যা বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। আমরা প্রযুক্তিবিদ, প্রযুক্তি এবং উৎপাদনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছি।’

তাঁর মতে, শুধু বিপুল পরিমাণ পণ্য উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

বাংলাদেশে তুলা উৎপাদিত না হলেও দেশে কাপড় তৈরির শক্তিশালী সক্ষমতা ও সুপ্রতিষ্ঠিত শিল্পভিত্তি রয়েছে। এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে ডেনিমের মান ও মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সামনে নতুন বাণিজ্যবিধির চ্যালেঞ্জ

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইউরোপের পোশাক বাজারে চলমান মন্দা বিভিন্ন দেশের রপ্তানিকারকদের প্রভাবিত করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আমদানি হ্রাস এবং জ্বালানিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

কঠিন বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ইইউর ডেনিম বাজারে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তিত বাণিজ্যবিধি, জেনারালাইজড স্কিম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি)-এর শর্ত এবং ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিলের মতো উদ্যোগের বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, বৈশ্বিক ডেনিম শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত নতুন শর্ত পূরণে বাংলাদেশের মনোযোগ বাড়াতে হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!