রাজধানী

অভিযোগ থেকে সমাধান, ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৭৪ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি

আপডেট: অক্টো ১৯, ২০২৬ : ০৫:১৪ এএম ১১ ০
অভিযোগ থেকে সমাধান, ডিএসসিসির ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৭৪ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি

রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ডিজিটাল উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।

সংস্থাটির চালু করা ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকেরা এখন পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারছেন। অভিযোগ গ্রহণের পাশাপাশি সেগুলোর নিষ্পত্তিও করছে সিটি করপোরেশন।

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে আরও ৬৫৫টি অভিযোগ। বাকি ২৪৬টি অভিযোগ সিটি করপোরেশনের আওতাবহির্ভূত বিভিন্ন সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট।

সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগের হার প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিএসসিসির কার্যপরিধির বাইরে থাকা অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির হার হিসাবের ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গত ৭ জুলাই ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ১ আগস্ট থেকে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়। চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যে অ্যাপটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।

ব্যবহারকারীদের ৮৩ শতাংশের বেশি ইতিবাচক মতামত

ডিএসসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে এখন পর্যন্ত ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক, যা মোট রিভিউয়ের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নাগরিকদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের যোগাযোগ সহজ করতে পারে। কোথাও ময়লা জমে থাকলে কিংবা বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে নাগরিকেরা অ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারছেন। এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে অভিযোগ পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অ্যাপটির উদ্দেশ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, বরং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোথায় সমস্যা রয়ে গেছে এবং কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি—এসব বিষয় চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে আরও নাগরিক সেবা

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি। ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নাগরিকদের অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে এক জায়গা থেকেই একাধিক সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘ক্লিন কেয়ার’ চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

কার্যকারিতা নির্ভর করবে দ্রুত সমাধানের ওপর

ডিজিটাল মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির উদ্যোগ নগরসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থার কার্যকারিতা শুধু অভিযোগের সংখ্যা কিংবা ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক রেটিং দিয়ে বিচার করা যায় না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা বারবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগ দ্রুত সমাধান করা এবং সেবার মান ধরে রাখা এখন ডিএসসিসির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের আওতার বাইরে থাকা অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো ও সেগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে নাগরিকেরা আরও কার্যকরভাবে উপকৃত হতে পারেন।

নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম। এ জন্য নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। নাগরিকদের দেওয়া তথ্য ও মতামত যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা আরও সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নতুন নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগের কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। এতে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টাও গতি পেতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!