শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। এ কারণে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানবসম্পদ। দক্ষ ও যোগ্য মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি অপরিহার্য। এ কারণে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আনন্দমুখর করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে ‘লার্ন উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণা পাঠ্যক্রম ও কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাকে আরও আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তোলা হবে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরে এহছানুল হক মিলন বলেন, উনিশ শতকে ব্রাহ্ম স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরে জগন্নাথ কলেজে রূপান্তরিত হয় এবং ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
বক্তব্যে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা খাতে অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু ও সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত উপবৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিমল বালা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মনজুর মোর্শেদ ভূঁইয়াসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!