সরকারি চাকরি থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা হওয়া পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন।
তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় তরুণদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি)-এর দিকে আরও বেশি এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তেমনি স্বল্প পুঁজিতেও নিজের উদ্যোগ গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
শুক্রবার সকালে খুলনা মহিলা কলেজের সেমিনার হলে আয়োজিত টিভিইটি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভর্তি প্রচারণা সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনিস আর রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী অনিমেষ পাল, খুলনা সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ কাজী নেয়ামুল শাহীন এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুশান্ত কুমার সাহা।
চেয়ারম্যান বলেন, দেশে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ শুরু হলেও তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। এ কারণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টেকনিক্যাল ও পলিটেকনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে নতুন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনাও চলছে।
তিনি আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার বড় শক্তি হলো—এখানে অর্জিত দক্ষতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পায়, পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ শুরু করতে পারে।
মোবাইল সার্ভিসিং, কম্পিউটারভিত্তিক অনলাইন সেবা, ইলেকট্রিক্যাল কাজ, ওয়েল্ডিং, নির্মাণকাজ ও কাঠশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে স্বল্প পুঁজিতে আয়মুখী উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানই তৈরি করে না, উচ্চশিক্ষার পথও উন্মুক্ত রাখে। দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কারিগরি শিক্ষার্থীদের সুযোগ বাড়ছে।
সেমিনারে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় ৪০০টি কলেজের প্রধান শিক্ষক ও ইমামরা অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!